আসছে ৪০০ জিবির মেমোরি কার্ড!

আসছে ৪০০ জিবির মেমোরি কার্ড!

মনের স্মৃতির পাতায় অগণিত স্মৃতি রাখা গেলেও প্রযুক্তির স্মৃতির পাতা বা মেমোরি কার্ডে সেই সুযোগ নেই। সেখানে একটি নির্দিষ্টমাত্রা পেরুনোর পর আর স্মৃতি সংরক্ষণ করা যায় না। সংরক্ষণ করতে চাইলে পুরনো স্মৃতি ফেলে নতুন স্মৃতি তুলে রাখতে হয়। কোন স্মৃতি ফেলে দিবেন আর কোন স্মৃতি তুলে রাখবেন- এটা নিয়ে ব্যবহারকারীকে পড়তে হয় দোটানায়। তবে গ্রাহকদের সেই দোটানা থেকে মুক্তি দিতে স্যানডিস্ক বাজারে নিয়ে এসেছে ৪০০ জিবির মেমোরি কার্ড। 
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে জার্মানির বার্লিনে স্যানডিস্ক তাদের এই মেমোরি কার্ডটি উন্মুক্ত করে। একইদিন মেমোরি কার্ডের পাশাপাশি ১৮ কোর প্রসেসরসমৃদ্ধ মনস্টার পিসি, গ্যাজিলন ভিআর হেডসেটের ঘোষণাও দেয়। 

তবে এতকিছুর মাঝেও আলাদাভাবে নজর কেড়েছে স্যানডিস্কের ৪০০ জিবির মেমোরি কার্ড। প্রথমদিকের ম্যাকবুক প্রোয়ের চেয়ে তিনগুণ বেশি জায়গা রয়েছে এই মেমোরি কার্ডে। যদি আপনি বইয়ের সংগ্রাহক হন তাহলে এই মেমোরি কার্ডে আস্ত একটি ডিজিটাল লাইব্রেরি রাখা সম্ভব। মেমোরি কার্ডে প্রতিটি এক মেগাবাইটের প্রায় চার লাখ বই সংরক্ষণ করা যাবে।  

প্রতিটি ১২ মেগাপিক্সেলের দুই মেগাবাইট আকারের প্রায় দুই লাখ ছবি আপনি সংরক্ষণ করতে পারবেন এই মেমোরি কার্ডে। এ ছাড়া চার মেগাবাইট করে এক লাখ গান, চার জিবি করে প্রায় ৮৮টি হাই-ডেফিনিশন চলচ্চিত্র সংরক্ষণ করা যাবে এই মেমোরি কার্ডে। আর ব্লু রে ছবির ক্ষেত্রে সে সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬টি। 
ad970

বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ৩২ জিবি মেমোরি কার্ডে প্রায় এক হাজার ৬০০ ছবি, আট হাজার গান ও সাতটি হাই-ডেফিনিশন ছবি ধারণ করা সম্ভব। অতএব এই হিসেব থেকেই ৪০০ জিবির মেমোরি কার্ডের বিশালতা আন্দাজ করা যায়। এর আগে মেমোরি কার্ডের সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল ২৫৬ জিবি। নতুন এই মেমোরি কার্ড তাই ভেঙে দিয়েছে অতীত রেকর্ডও। স্যানডিস্কের ৪০০ জিবির এই মেমোরি কার্ডের দাম ধরা হয়েছে ২৫০ মার্কিন ডলার।  
ad970

কলম নির্ণয় করবে ক্যানসার

কলম নির্ণয় করবে ক্যানসার


অসির চেয়ে মসি বড়—এ কথা অন্যভাবে প্রমাণ করলেন অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। কারণ, ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে কোনো যন্ত্রপাতি নয়, তাঁরা সাহায্য নিয়েছেন কলমের। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে টাইমের খবরে প্রকাশ, টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এমন একটি কলম তৈরি করেছেন, যা মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ক্যানসার আক্রান্ত কোষকে শনাক্ত করতে সক্ষম। 
শুধু শনাক্তই নয়, ক্যানসারের কোষকে পুরোপরি দূর করতে কোন কোষগুলো কাটা উচিত, তা বলে দেবে এই কলম। আর এই জাদুকরি কলমের নাম ‘মাসস্পেক পেন’। যদিও ক্যানসার কোষ শনাক্তকরণে শতভাগ নিশ্চিত হতে পারছে না কলমটি। তবে এটি প্রায় ৯৬ শতাংশ নির্ভুলভাবে ক্যানসার আক্রান্ত কোষ ও সুস্থ কোষের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে। 

ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের রসায়নের সহকারী অধ্যাপক লিভিয়া সিচিয়াভিয়ানাতো এবারলিন বলেন, ‘এটি সাধারণ একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এতে উচ্চমাত্রার ক্ষমতা রয়েছে, পাশাপাশি এটি বেশ স্পর্শকাতর। সবচেয়ে বড় কথা, ক্যানসার নির্ণয় বা নিরাময়ে অন্যান্য প্রযুক্তির মতো এটি অত ক্ষতিকারক নয়।’ 
ক্যানসার কোষ শনাক্ত করার জন্য কোষের একটি নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠাতে হয়। পরীক্ষাগারে ফল পেতে অনেক সময় লাগে। তবে শল্যচিকিৎসার সময় কোষ হিমায়িত করেও বিশ্লেষণ করা যায়। এতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। কিন্তু এই কলমটির উদ্ভাবনের ফলে ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই নির্ণয় করা যাবে ক্যানসার। আর তা হবে প্রায় নির্ভুল। ক্যানসার কোষে সামান্য পরিমাণ পানি যোগ করে এই কলমটির সাহায্যে কর্কট রোগ নির্ণয় করা যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। 
ad970

গবেষণাকাজে ২৫ জন ক্যানসার আক্রান্ত স্তন, ফুসফুস, থাইরয়েড ও ডিম্বাশয়ের কোষের পাশাপাশি ভালো কোষের নমুনা এ কলম দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। মাসস্পেক পেনটি এ ক্ষেত্রে ৯৬ শতাংশ সফল হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যেই ক্যানসার নির্ণয়ে পুরোদমে এর ব্যবহার চালু করতে চান গবেষকরা।
ad970
বছরে হাজার বই পড়ার সহজ উপায়!

বছরে হাজার বই পড়ার সহজ উপায়!

বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ। আগে যে সময়টুকুতে বিভিন্ন সাহিত্যের আবেগে ভেসে যেত মানুষ, সে সময়টুকু এখন দ্রুতবেগে কেটে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে। শুধু দ্রুতবেগেই নয়, দৈনন্দিন জীবনের বড় একটা সময় হারিয়ে যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে, অন্যের জীবনযাপন দেখতে দেখতে। অথচ এক বছরে যে সময়টুক সামাজিক মাধ্যমে বা টেলিভিশনে অনুষ্ঠান দেখে কাটানো হয়, সে সময়ে পড়া যেত প্রায় এক হাজার বই। ব্যবস্থাপনা সংস্থা মিডিয়াকিক্স-এর সাম্প্রতিক একটি গবেষণার বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে ভ্রমণবিষয়ক গণমাধ্যম ট্রাভেল লেজার।

গবেষণাটিতে জানা যায়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ৫০ মিনিট করে সময় ব্যয় করে এগুলোর পেছনে। অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম, যেমন—স্ন্যাপচ্যাট, টুইটারে গড়ে ২৫ মিনিট করে ব্যয় করেন ব্যবহারকারীরা। অন্যদিকে, ইউটিউবের গান ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবন থেকে গড়ে ৪০ মিনিট করে কেড়ে নিচ্ছে। সব মিলিয়ে গড়ে একটি মানুষ তার পুরো জীবনে প্রায় পাঁচ বছর চার মাস বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ব্যয় করে।

অনলাইন গণমাধ্যম ‘বেটার হিউম্যানস’-এর প্রদায়ক চার্লস চু’য়ের মতে, এতটুকু সময়ে আপনি প্রচুর বই পড়তে পারবেন। অপর একটি গণমাধ্যম ‘কোয়ার্টজ’-এ  চু লিখেন, এক বছরে তিনি প্রায় ২০০টি বই পড়েছেন। এ জন্য তাঁকে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি। শুধু তিনি সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে এনেছেন। শুধু মুখেই এ কথা বলে ক্ষান্ত হননি চার্লস চু। রীতিমতো অঙ্ক কষে প্রমাণ করেছেন নিজের কথার।
ad970
চু অঙ্ক কষে বের করেন, একজন মার্কিন নাগরিক প্রতি মিনিটে ২০০-৪০০ শব্দ পড়তে পারেন। ধরে নেওয়া যাক একজন পাঠক প্রতি মিনিটে পড়তে পারেন ৪০০ শব্দ। আর সাধারণ প্রবন্ধের বইগুলো হয় গড়ে ৫০ হাজার শব্দের। চু যতগুলো বই পড়তে চেয়েছিলেন, সেগুলোর সঙ্গে ৪০০ গুণ দেন, এরপর ভাগ দেন ৬০ মিনিট দিয়ে। এরপর দেখা যায় ২০০ বই পড়তে সময় লাগবে ৪১৭ ঘণ্টা।
চু’য়ের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে, একজন মানুষ প্রতিবছর ৬০৮ ঘণ্টা সামাজিক মাধ্যমে এবং ১,৬৪২ ঘণ্টা টেলিভিশন দেখে কাটায়। যোগ করলে যা দাঁড়ায় ২২৫০ ঘণ্টায়। চু’য়ের হিসাব অনুযায়ী ২২৫০ ঘণ্টায় একজন মার্কিন পাঠক প্রায় ১০০০টি বই পড়তে পারবে, প্রতিবছর।
কোয়ার্টজে চু লিখেছেন, ‘এটি আসলে কঠিন কিছু নয়। আমাদের বই পড়ার যথেষ্ট সময় রয়েছে। এ জন্য আমাদের অবসর সময়গুলোতে টুইটারে তারকা এবং টিভিতে ‘ডেসপারেট হাউস ওয়াইভস’ না দেখে বই পড়া উচিত।’ এ ছাড়া বই পড়ার জন্য একটি নীরব ও শান্তিপূর্ণ জায়গা খোঁজার পরামর্শও দেন চু।
ad970

আঙুলের ছাপ বা মুখ দেখেই খুলবে উইন্ডোজ ১০

আঙুলের ছাপ বা মুখ দেখেই খুলবে উইন্ডোজ ১০

মাঝেমধ্যেই ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়াটা প্রায় সবার ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। আর এ সমস্যার সমাধান পেতে উইন্ডোজ ১০ নিয়ে এলো উইন্ডোজ হ্যালো। সি-নেটে প্রকাশিত এক প্রতিবদন থেকে জানা যায়, উইন্ডোজ হ্যালোর মাধ্যমে আপনি আপনার মুখমণ্ডল অথবা আঙুল দিয়ে খুলে ফেলতে পারবেন আপনার ল্যাপটপের লক।
সম্প্রতি আইফোন এক্স মুখ পর্যবেক্ষণ করে লক খোলার প্রযুক্তি নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের ওই ঘোষণার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মাইক্রোসফট ঘোষণা দিল, তারাও একই রকম প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, তবে তাদের এই প্রযুক্তির নাম রাখা হয়েছে উইন্ডোজ হ্যালো।
উইন্ডোজ হ্যালো মুখমণ্ডল বা আঙুলের ছাপ শনাক্ত করতে পারবে মাত্র দুই সেকেন্ডে। উইন্ডোজ ১০-এর এই সুবিধা পেতে হলে আপনার ল্যাপটপে অবশ্যই ইনফ্রারেড (আইআর) ক্যামেরা যুক্ত থাকতে হবে। বর্তমান ল্যাপটপ ডেল, লেনেভো, আসুসে এই সুবিধা যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আর যদি আপনার নতুন ল্যাপটপ কেনার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে আপনি অতিরিক্ত একটি ওয়েবক্যাম কিনে নিতে পারেন, যার মাধ্যমে আপনি এই সুবিধা পেতে পারেন।
ad970
এই নতুন প্রযুক্তি আপনার কম্পিউটারে আছে কি না, তা পরীক্ষা করার একটি সহজ পথ রয়েছে। প্রথমত, আপনি আপনার কম্পিউটারের নিচের দিকে বাঁ পাশে সার্চ অপশনে যাবেন। সেখানে sign-in options লিখে সার্চ দিন। যদি সেখানে Windows Hello এই অপশনটি থাকে, তাহলে সেখান থেকেই দেখে বুঝতে পারবেন, এ প্রযুক্তি আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। আর আপনার ল্যাপটপের যদি ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর থাকে, তাহলে আপনি আঙুলের ছাপের মাধ্যমেও লক/আনলক করতে পারবেন।

একটি বিষয় মনে রাখবেন, আপনার কম্পিউটারে এই পদ্ধতি চালু করার পাশাপাশি পাসওয়ার্ড দেওয়ার সুবিধাটি থাকবে। অবশ্যই পাসওয়ার্ড দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে রাখবেন। কারণ, কোনো কারণে যদি আপনার মুখ বা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে লক খুলতে সমস্যা হয়, তাহলে পাসওয়ার্ড দিয়ে লক খুলে নিতে পারবেন।
ad970
রংপুরবাসীর জন্য শনিবার থেকে স্মার্ট কার্ড

রংপুরবাসীর জন্য শনিবার থেকে স্মার্ট কার্ড

রংপুর সিটি কর্পোরেশনবাসী আগামী শনিবার (৭ অক্টোবর) থেকে স্মাট কার্ড পাচ্ছেন। ওইদিন সকাল ১১টায় রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার স্মার্ট কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন।
ইসির এনআইডি শাখার যোগাযোগ কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, উদ্বোধনের দিন ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও রংপুর সিটি মেয়র সরফদ্দীন অহম্মদ উপস্থিত থাকবেন। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে, তারাই পর্যায়ক্রমে এই ‘স্মার্ট’ পরিচয়পত্র পাবেন।



স্মার্ট কার্ড বিতরণের তারিখ ও স্থান নির্ধারিত সময়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং মাইকিং, ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচার করে জানিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানাতে একটি হেল্প ডেস্ক খুলেছে এনআইডি উইং। যেকোনো ফোন থেকে ১০৫ নম্বরে কল করলে নাগরিকদের তথ্য জানাবেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিভাগের কর্মকর্তারা।
এসএমএসএর মাধ্যমে বিতরণের তারিখ ও কেন্দ্র জানতে যেকোনো মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SC লিখে স্পেস দিয়ে NID লিখে স্পেস দিয়ে ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর বসিয়ে (যাদের এনআইডি নম্বর ১৩ ডিজিটের তারা প্রথমে জন্ম সাল যুক্ত করে) ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে।



যারা ভোটার হয়ে এখনো এনআইডি পায়নি তাদের প্রথমে SC লিখে স্পেস দিয়ে F লিখে স্পেস দিয়ে নিবন্ধন স্লিপের ফরম নম্বর স্পেস দিয়ে D লিখে YYY-MMM-DDD ফরম্যাটে জন্মতারিখ লিখে ১০৫ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। ফিরতি মেসেজে বিতরণের তারিখ ও বিতরণকেন্দ্র জানিয়ে দেবে এনআইডি উইং।

ad970

সুত্র: জাগো নিউজ 24
মেলা থেকে বাড়ি ফেরা হলো না সুনিতার

মেলা থেকে বাড়ি ফেরা হলো না সুনিতার

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সুনিতা (১১) নামে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ আহত হয়েছেন আরও ২ জন। আহতরা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল ও বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের সিন্দুরপিন্ডি নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ad970
নিহত সুনিতা (১১) উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের আঠিয়াবাড়ী গ্রামের সুবাস চন্দ্রের মেয়ে ও লোহাগাড়া বঙ্গভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী।
আহতরা হলেন, বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার চাড়োল গ্রামের জসিদের স্ত্রী মানসী (২২) এবং আঠিয়াবাড়ী গ্রামের সুজন আলীর ছেলে পলাশ (১৯)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পলাশের বাবা সুজন বলেন, ধনতলা ইউনিয়নের দোলুয়া মেলা থেকে সুনিতা ও মানসী পলাশের মোটরসাইকেলের পিছনে বসে বাড়ি ফিরছিলেন। সিন্দুরপিন্ডি নামক স্থানে এলাকার কয়েকজন বখাটে ছেলে দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে পিছন দিক থেকে তাদের ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলের আরোহী পলাশ, পিছনে বসে থাকা সুনিতা ও মানসী রাস্তায় পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সুনিতার মৃত্যু হয়।
ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংগ্রহ: জাগো নিউজ 24
ad970

ঠাকুরগাঁওয়ে বিষের বোতল নিয়ে আ.লীগ নেতার বাড়িতে নারী চাকরি প্রার্থী

ঠাকুরগাঁওয়ে বিষের বোতল নিয়ে আ.লীগ নেতার বাড়িতে নারী চাকরি প্রার্থী

সদর উপজেলার গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক রুবেল চাকরির জন্য সুরাইয়া নামে এক নারীর কাছে ৭ লাখ টাকা নিয়েও চাকরি না দেয়ায় অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ওই নারী টাকা ফেরত পেতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বাড়িতে বিষের বোতল নিয়ে হাজির হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইতোমধ্যে ওই নারীকে অর্ধেক টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।



জানা যায়, গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গ্রন্থগারিক শূন্যপদে নিয়োগের জন্য সদর উপজেলার গড়েয়া মুন্সিপাড়া এলাকার আব্দুল কাদেরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম ফারুক রুবেলের দ্বারস্থ হন। তিনি নিয়োগ দিবেন মর্মে ৭ লাখ টাকা দাবি করেন। তাতে রাজি হয়ে যান সুরাইয়া বেগম এবং অগ্রিম পুরো টাকাই দিয়ে দেন।
এদিকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওই বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারিক ও এমএলএস শূন্যপদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রন্থাগারিক পদে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের প্রার্থী উজ্জল হোসেনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এতে হতাশ হয়ে যান সুরাইয়া বেগমসহ অন্য প্রার্থীরা।
সুরাইয়াকে চাকরি দিতে না পারায় স্কুল ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ওইদিনই তাকে অর্ধেক টাকা ফেরত দেন। বাকি টাকা পরে দিবেন বলে জানিয়ে দেন।


এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে সুরাইয়া বেগম ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বাড়িতে বাকি উৎকোচের টাকা ফেরত নেয়ার জন্য আসেন। এসময় তিনি বিষের বোতল হাতে নিয়ে আসেন। সেখানে কিছুটা বাকবিতণ্ডা হলে সভাপতি সুরাইয়াকে কয়েকদিন পর টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বিদায় জানান।
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক ও এমএলএস পদে নিয়োগ আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে গ্রন্থাগারিক পদে ১২ জন ও এমএলএস পদে ৯ জন আবেদন করেন। স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ওই দুই পদে নিয়োগ প্রদানের কথা বলে অনেক প্রার্থীর কাছে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু সেই সকল প্রার্থীদের নিয়োগ না দিয়ে প্রধান শিক্ষক ও এমপির পছন্দের লোককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।



গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক ও এমএলএস শূণ্যপদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় এমপি রমেশ চন্দ্র সেন নিজেই উপস্থিত থেকে প্রার্থীদের পরীক্ষা নেন। পরে গ্রস্থাগারিক পদে উজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে চূড়ান্ত করা হয়।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রার্থী জানান, গ্রস্থাগারিক ও এমএলএস পদের জন্য চাকরি দেয়ার নামে স্কুল কমিটি অনেকের কাছে ৮-১০ লাখ টাকা অগ্রিম নেয়। কিন্তু কারও চাকরি দিতে পারেনি। আরও বেশি টাকার বিনিময়ে এমপি সাহেব, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রুবেল ও প্রধান শিক্ষকের মতামতে ওই দুই পদে নিয়োগ দিয়েছেন অন্যজনকে। আমরা অনেকেই জমি জায়গা, গরু, বাছুর বিক্রি করে চাকরির আশায় টাকা দিয়েছিলাম স্কুল কমিটিকে। আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছি।
গ্রস্থাগারিক প্রার্থী সুরাইয়া বেগম ও তার স্বামী আব্দুল কাদের জানান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের বড় নেতা রুবেল ভাইয়াকে তার কথা মত ৭ লাখ টাকা প্রদান করেছিলাম। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন চাকরিটা হবেই। কিন্তু, অন্যজনের কাছে বেশি টাকা নিয়ে এমপি, প্রধান শিক্ষক ও উনি নিয়োগ চূড়ান্ত করেছেন। নিয়োগ দিতে না পারায় সভাপতি ইতোমধ্যে অর্ধেক ফেরত দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বাকি টাকা দিতে টালবাহানা শুরু করায় আমার স্ত্রী উনার বাড়িতে (সভাপতির) বিষের বোতল নিয়ে গেছিলেন। বাকি অর্ধেক টাকা ২ অক্টোবর (আজ) দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উজ্জলের কাছে জানতে চাইলে স্কুলের উন্নয়নের জন্য স্কুল ফান্ডে কিছু টাকা দেয়া হয়েছে বলে তিনি শিকার করেন।
গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওহিদুল ইসলাম জানান, এমপি সাহেবের উপস্থিতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তারপর নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। অনেকের কাছে টাকা নিয়েছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন কারও কাছে কোনো টাকা নেয়া হয়নি। এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।
গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক রুবেল জানান, টাকার বিনিময়ে কোনো প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। চাকরি দেয়ার নামে সুরাইয়া বেগম নামে কোনো নারীর কাছে টাকা নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেগের বশে কেও কিছু বললে তা তো আর সত্য নয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার মোশারফ হোসেন জানান, সকলের উপস্থিতিতে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নাম্বার প্রার্থীকে চূড়ান্ত করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেন জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় আমি উপস্থিত থেকে স্বচ্ছভাবে মেধার মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। কেউ যদি চাকরির জন্য অন্য কাউকে টাকা দিয়ে থাকেন সেটি ভুল করেছেন।

সংগ্রহ: jagonews24