অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে ব্যয় করা যাবে ব্যাংকের সিএসআরের অর্থ

পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে ব্যয় করা যাবে ব্যাংকের সিএসআরের অর্থ

দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের (সিএসআর) অর্থ ব্যয় করা যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মনোজ কুমার বিশ্বাস স্বাক্ষরিত সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতাকে (সিএসআর) মূল ব্যবসায়িক কৌশলের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের আর্থিক খাতসমূহের মাধ্যমে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় নির্ধারিত খাতে বরাদ্দ এবং এর প্রান্তিক ব্যবহারকারীদের পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্দেশনামূলক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নীতিমালায় সিএসআর ব্যয়ের প্রাধিকার খাত হিসেবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে এ শিল্পের বিকাশে স্থানীয় বিশ্ব ঐতিহ্য চিহ্নিত এলাকা, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ধর্মীয় স্থাপনা, কৃষ্টি ও কালচার, প্রাকৃতিক সম্পদ, অরণ্য, পাহাড়, হাওর ইত্যাদিকে ভিত্তি করে পর্যটন আকর্ষণ, পর্যটন এলাকা সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশি বিদেশি পর্যটকদের জন্য সুবিধাদি প্রবর্তনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় অর্থ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এ শিল্পের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে। এ প্রেক্ষিতে দেশের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের আওতায় এ খাতে উল্লেখযোগ্য হারে ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ অর্থ সহায়তা প্রদানের জন্য পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে।


এ সংক্রান্ত ব্যয় সোস্যাল প্রজেক্টস অথবা কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট খাতের কালচার উপখাতে প্রদর্শন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


ব্যাংকের দাপটে বাড়ল প্রধান সূচক

ব্যাংকের দাপটে বাড়ল প্রধান সূচক

সপ্তাহের পঞ্চম ও শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক সিএসসিএক্স কিছুটা বেড়েছে। উভয় বাজারেই লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির দরপতন হওয়ার পরও ব্যাংকিং খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর দাপটে সূচক বেড়েছে। এর মাধ্যমে টানা আট কার্যদিবস পতনের পর উভয় বাজারে সূচক বাড়ল।
এ দিন ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে ১৩ পয়েন্ট। আর বাজারটিতে দরপতন হয়েছে ৪৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের। তবে বাজারটিতে লেনদেন হওয়া ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৯টিরই শেয়ার দাম বেড়েছে। অপর বাজার সিএসইতে সার্বিক মূল্য সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে ১৪ পয়েন্ট এবং দরপতন হয়েছে ৫৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের। এ বাজারে লেনদেন হওয়া ২৯টি ব্যাংকের মধ্যে ২৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে।


বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতায় ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের প্রথম ১০ মিনিটে প্রধান সূচক ডিএসইক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে। তবে এর পরেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে সূচক। বেলা ১১টায় ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
কিন্তু সূচকের এ ঊর্ধ্বমুখীতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বেলা ১১টার পর থকে সূচক টানা নিম্নমুখী হতে থাকে। ফলে ১১টা ৪৩ মিনিটে ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে যায়। সূচকের এ ঋণাত্মক অবস্থা দুপুর ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। তবে শেষ সময়ের লেনদেনে ডিএসইএক্স ধনাত্মক হয়ে পড়ে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৯২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে কমেছে অপর দুটি সূচক। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৫ পয়েন্টে। এর মাধ্যমে এই সূচক দুটির টানা ৯ কার্যদিবস পতন হলো।




ডিএসইতে আজ লেনদেন হওয়া ১৬০টি বা ৪৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়েছে। অপরদিকে দাম বেড়েছে ১৩১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টির দাম। লেনদেন হয়েছে ৬২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৭৭৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ১৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
টাকার অংকে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক শেয়ার। এ দিন কোম্পানির ৩৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংকের ৩০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে যমুনা ব্যাংক।
লেনদেনে এরপরেই রয়েছে- প্রিমিয়ার ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইফাদ অটোস, সামিট পাওয়ার, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স এবং গ্রামীণ ফোন।
দেশের অপর শেয়ারবাজার সিএসই-এ সিএসসিএক্স সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৪১২ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৪১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮৩টির দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। অপরদিকে দাম কমেছে ১৩৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দাম।



খরায় পুড়ছে ঢাকার শেয়ারবাজার

খরায় পুড়ছে ঢাকার শেয়ারবাজার

টানা দরপতন ও লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে শেয়ারবাজারে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ অর্ধেকে নেমেছে। সেইসঙ্গে পতন হয়েছে মূল্য সূচকেও। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই চার দিনই সূচক কমেছে।
এর মাধ্যমে পরপর দুই সপ্তাহ ডিএসইতে মূল্য সূচকের পতন ঘটল। এর আগে টানা তিন সপ্তাহ মূল্য সূচক বেড়েছিল। শেষ সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে (২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর) ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। মূল্য সূচকের মতো লেনদেনও কমেছে টানা দুই সপ্তাহ।



শেষ সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসেই লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মূল্য কমেছে। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মধ্যেও ব্যাংক কোম্পানিগুলোর শেয়ার দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে মূল্য সূচকে বড় পতন ঘটেনি।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৭৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৩৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের টানা দরপতনে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১১১ পয়েন্ট।
অপর দুটি সূচকের মধ্যে শেষ সপ্তাহে ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ১৯ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বা দশমকি ৯১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এই সূচকটি কমে ২৭ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৪ শতাংশ।
অপরদিকে শেষ সপ্তাহে ডিএসই শরিহ্ সূচক কমেছে ১৬ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট বা ১ দশমকি ১৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ২৩ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।



সূচকের স্বল্প পতন হলেও শেষ সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ২৬১টি বা ৭৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেরই দরপতন হয়েছে। অপরদিকে দাম বেড়েছে মাত্র ৫৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির দাম।
শেষ সপ্তাহে মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি কমেছে মোট ও দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ২২১ কোটি ৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৫৩২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বা ৪৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।
অপরদিকে শেষ সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় ৬ হাজার ১০৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ২ হাজার ৬৬১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।


গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৮৯ দশমিক ৮২ শতাংশই ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দখলে। এছাড়া বাকি ৪ দশমিক ২০ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত, ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত এবং ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের।
এদিকে গত সপ্তাহে মূল্য সূচক ও লেনদেন কমার পাশাপাশি ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণও কমেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৪ লাখ ১০ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে হাজার ১০২ কোটি টাকা।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ১১ শতাংশ।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। ১২০ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক।
লেনদেনে এরপর রয়েছে- যমুনা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, বিবিএস কেবলস, আইএফআইসি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ইফাদ অটোস।
দুমাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

দুমাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে পেঁয়াজের দাম। রাজধানীর বাজারগুলোতে গত দুই মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দুমাস আগের ২৫-৩০ টাকার পেয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আকার ভেদে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫-১০ টাকা। এছাড়া সবজির বাজারও অনেকটা চড়া। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ, মাংস আর মুরগির দাম।
শুক্রবার রাজধানীর কচুক্ষেত, ইব্রাহীমপুর, ভাষানটেকসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম। দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪০-৪৫টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচাবাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেত বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি।


ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যার কারণ এবং এই অমৌসুমে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।
পেঁয়াজের দাম বাড়াতে কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কচুক্ষেত বাজারে আগত ক্রেতা মনসুর আলী বলেন, অসুবিধা তো হচ্ছেই। কোন পন্যের দাম বাড়লে কষ্ট পাই আমরা সাধারন মানুষেরা।
কেজিপ্রতি সাদা আলু ২০-২২ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা, শিম ৯০-১০০ টাকা, টমেটো ১০০-১২০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, মূলা ৫০-৬০ টাকা, শশা ৬০-৭০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার পিচ ৩০-৪০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ২০-২৮ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন কেজি প্রতি ১৬০ টাকা, মোটা রসুন ২০০ টাকা, আদা ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি আঁটি লাউ শাক ৩০ টাকা, লাল শাক ও সবুজ শাক ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা ও ডাটা শাক ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।




আগের সপ্তাহের দরেই গরু, খাসি ও ব্রয়লার মুরগির বিক্রি করছে বিক্রেতারা। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খাসি ৫৫০-৫৮০ টাকা, কেজি প্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৩০-১৪০ টাকা, কক মুরগি ২৫০-২৬০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
রাজধানীর খুচরা মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই-কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০-২৫০, সিলভার কার্প ১৮০-২০০ টাকা, আইড় ৪৫০-৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬০০-১৪০০ টাকা, পুঁটি ১৮০-২০০ টাকা, পোয়া ৪০০-৪৫০ টাকা, মলা ৩২০-৩০০ টাকা, পাবদা ৫০০-৬০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০-৫০০ টাকা, শিং ৫০০-৮০০, দেশি মাগুর ৬৫০-৭০০ টাকা, শোল মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৪০-১৬০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


বিক্রেতারা এক কেজি মোটা চাল বিক্রি করছে ৪৫-৫০ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট ৫৫-৬০ টাকা, নাজির শাইল ৬০-৬৪ টাকা ও বিআর আটাশ ৪০-৪৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এবার উল্টো চিত্র সেই কোম্পানিগুলোর

এবার উল্টো চিত্র সেই কোম্পানিগুলোর

চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্যাসিফিক ডেনিমসের। ওই দিন লেনদেন শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম দাঁড়ায় ২৬ টাকা ৫০ পয়সা। এরপর ৫ মার্চ দাম বেড়ে হয় ২৮ টাকা ৬০ পয়সা। লেনদেন শুরু প্রথম এক মাস এভাবেই দাম বাড়ে প্রতিষ্ঠানটির ১০ টাকা মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের। অর্থাৎ লেনদেন শুরুর প্রথম এক মাসে প্যাসিফিক ডেনিমসের শেয়ার দাম বাড়ে ১৮৬ শতাংশ।
তবে বেশি দিন স্থায়ী হয়নি প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর বৃদ্ধির এ রথ। ৫ মে’র পর থেকে অনেকটা ধারাবাহিকভাবেই প্যাসিফিক ডেনিমসের শেয়ার দাম কমেছে। টানা দাম কমে ২১ মে প্রতিটি শেয়ারের দাম নেমে আসে ২১ টাকা ৩০ পয়সায়। তবে জুলাই মাসে বাজারে উল্লম্ফন দেখা দেয়ায় এ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দামও আবার বাড়তে থাকে। ২৬ জুলাই লেনদেন শেষে শেয়ারের দাম বেড়ে ২৬ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছে যায়।
লেনদেন শুরুর প্রথম মাসের মতো এবারও মূল্য বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকেনি। ২৬ জুলাইয়ের পর থেকে আবার ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মূল্য কমেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষে প্যাসিফিক ডেনিমের দাম দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ২০ পয়সা।
শুধু প্যাসিফিক ডেনিমস নয়, বর্তমানে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির তালিকায় বা ‘এন’ গ্রুপে থাকা সব কোম্পানির তথ্য পর্যলোচনা করে একই অবস্থা পাওয়া গেছে। বর্তমানে এন গ্রুপে কোম্পানি আছে পাঁচটি। অন্য চারটি হলো, ফরচুন সুজ, নূরানী ডাইং, বিবিএস কেবলস এবং শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। লেনদেনের প্রথমদিকে এই কোম্পানিগুলোর সব ক‘টির দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এরপর শেয়ার দাম ধারাবাহিকভাবে কমে গেছে।
তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত আগস্ট মাসেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনে বড় ধরনের দাপট দেখায় এন গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো। জুলাই মাসের শেষ দিন বিবিএস কেবলসের লেনদেন শুরু কারণেই মূলত দাপট দেখায় এন গ্রুপ। ডিএসইর মোট লেনদেনে এন গ্রুপের অংশ চলে যায় ৮ শতাংশের ওপরে। তবে বিবিএস কেবলসের লেনদেন শুরুর এক মাস পর থেকেই আবার একই চিত্র দেখা গেছে। বর্তমানে ডিএসইর মোট লেনদেনে এন গ্রুপের অংশ কমে অর্ধেক বা ৪ শতাংশে চলে এসেছে।


লেনদেন শুরুর পর এক মাসের মধ্যে বিবিএস কেবলসের ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের দাম বেড়ে দেড়’শ টাকায় পৌঁছে যায়। এরপর পরিণতি যা হওয়ার ঘটেও তাই। ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে কোম্পানিটির শেয়ার দাম। দেড়’শ টাকা থেকে কমতে কমতে ২৮ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষে বিবিএস কেবলসের শেয়ার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকা ৩০ পয়সায়।
লেনদেন শুরুর দিকে শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং এরপর ধারাবাহিকভাবে কমার বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করে না। তারা মূলত বাজারে যখন যে গুজব চলে তার ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করে। ফলে বিভিন্ন চক্র বাজারে নানা রকম গুজব ছড়িয়ে শেয়ার দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটে নেয়। শেয়ার দাম বৃদ্ধির পর ওইসব চক্র তাদের কাছে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে ছিটকে পড়ে এবং তার পর থেকেই শেয়ারের দাম কমতে থাকে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, যখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোন কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা বেড়ে যায়, তখন ওই কোম্পানির শেয়ার দাম হুট করে বেড়ে যায়। তবে সব সময় এ চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত কোন সঠিক কারণ থাকে না। মূলত গুজবের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীরা এ বিনিয়োগ করে। ফলে একটা পর্যায়ে এসে শেয়ার দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
বিএসইর আরেক সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, শেয়ারবাজারে একটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন শুরুর প্রথমদিকে ওই কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি থাকে। এতে হুট করে শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। শুরুতেই কোন কোম্পানির দাম হুট করে বেড়ে যাওয়া বাজারের জন্য ভালো না। কিন্তু এটা বন্ধ করার কোন উপায় নেই। কেউ যদি বিনিয়োগ করতে চায়, তাকে ঠেকানো যাবে না। মূলত আমাদের বিনিয়োগকারীরা যথেষ্ট পরিপূর্ণতা (দক্ষ) লাভ করেনি, যে কারণে এমন চিত্র দেখা যায়। তবে যারা চালাক তারা দাম কমার আগেই বিক্রি করে দেয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. বখতিয়ার হাসান বলেন, এন গ্রুপের কোম্পানিগুলোর দাম ও লেনদেন চিত্র দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, লেনদেন শুরু হওয়ার প্রথম কয়েকদিন দাম হু হু করে বাড়ছে। কিছুদিন দাম বাড়ার পর এক পর্যায়ে এসে টানা দাম কমে যাচ্ছে। এমন হুট করে দাম বাড়ার পেছনে যেমন গুজব কাজ করছে, তেমনি রেগুলেটরি (নিয়ন্ত্রণ) দুর্বলতাও রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ন্ত্রণ সঠিকভাবে না হওয়ার কারণেই নতুন কোম্পানির শেয়ার দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে এবং এক পর্যায়ে এসে দাম কমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ১০ টাকার একটি শেয়ার এমনি এমনি দেড়’শ টাকায় পৌঁছে যেতে পারে না। এটাকে কিছুতেই স্বাভাবিক বলা যায় না। একটি কোম্পানি ১০ টাকা মূল্যে শেয়ারবাজারে আসল, আর তালিকাভুক্তির পরপরই তার আর্থিক অবস্থার কি এমন পরিবর্তন ঘটল শেয়ার দাম ১৪শ’ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে। নিশ্চয় কোন বিশেষ চক্র এমন দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে। দাম বাড়ার পর ওই চক্র তাদের ফায়দা লুটে শেয়ার ছেড়ে দিয়েছে। যার প্রভাব এখন শেয়ার দামে দেখা যাচ্ছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে দাম কমছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত যারা এমন দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তা না হলে এমন ঘটনা বারবার ঘটতে থাকবে এবং এক শ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ধরা খাবেন।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের ২০ অক্টোবর লেনদেন শুরু হওয়া ফরচুন সুজের ১০ টাকার শেয়ার প্রথম দিনেই লেনদেন হয় ৬০ টাকায়। এরপর কিছুদিন দাম কমলেও ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিটি শেয়ারের দাম ৬২ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছে যায়। তবে এ পর্যায়ে এসে অনেকটা ধারাবাহিকভাবেই কমেছে ফরচুন সুজের শেয়ার দাম। ২৮ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৫০ পয়সা। অথচ সেপ্টেম্বর মাসের শরুতেও কোম্পানিটির শেয়ার ৬১ টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জুন লেনদেন শুরুর প্রথম দিন নূরানী ডাইং-এর শেয়ার দাম দাঁড়ায় ২০ টাকা ৮০ পয়সা। এরপর দাম বাড়তে বাড়তে তা ১২ জুলাই ২৭ টাকায় পৌঁছে যায়। এ পর্যায়ে এসে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম কমতে থাকে। ২৮ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দাম দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৭০ পয়সা। তবে গত ১৮ সেপ্টেম্বরও প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম ২৩ টাকার ওপরে ছিল।
এন গ্রুপের অপর প্রতিষ্ঠান শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের লেনদেন শুরু হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম দিনের লেনদেন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ৫৩ টাকা ১০ পয়সা। পরের কার্যদিবসে তা বেড়ে হয় ৫৫ টাকা ৪০ পয়সা। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দাম দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ৬০ পয়সা। অথচ চলতি মাসের শুরুতেও কোম্পানিটির শেয়ার দাম ৪০ টাকার ওপরে ছিল।