শিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি


সরকারকে জড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগ দাবি করেছেন স্বতন্ত্র সাংসদ তাহজীব আলম সিদ্দিকী।
জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) তিনি এই দাবি করেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরে তাহজীব আলম বলেন, ‘অতিকথন দোষে দুষ্ট আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর অতিবিতর্কিত মন্তব্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। পত্রপত্রিকায় দেখেছি, মন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছেন, “আপনারা সহনীয় পর্যায় ঘুষ খাবেন। ঘুষ খেতে না বলার নৈতিক সাহস আমার নেই। কারণ আমি ঘুষ খাই, মন্ত্রীরা ঘুষ খায়।” এই বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য মন্ত্রীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁকে অবশ্যই সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁর মন্তব্যের জন্য ব্যাখ্যা দিতে হবে। সত্যিই তিনি আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ হলে জনগণের কাছে সরকারকে বিতর্কিত না করে ওনার উচিত নিজ পদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া। কারণ একটি সফল ও সার্থক সরকারের ভাবমূর্তি কোনো দায়িত্বহীন ব্যক্তির লাগামহীন বক্তব্যে ভূলুণ্ঠিত হতে পারে না।’


এরপর তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘স্কুলে স্কুলে ইয়াবায় ছেয়ে যাচ্ছে। মাদকের মাধ্যমে আমরা একটি প্রজন্মকে শেষ করে দিচ্ছি। জঙ্গিবাদের থেকেও ভয়াবহ হচ্ছে মাদক। এর সঙ্গে কে বা কারা জড়িত, তা আমার জানার বিষয় নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দাবি করব।’ মাদক ব্যবসায়ীদের হত্যা করার ইঙ্গিত করে নজিবুল বশর বলেন, ‘আমি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান, যদি সরকারের কাছে তথ্য থাকে যে আমি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাহলে আমাকে হত্যা করুন। আমাকে হত্যা করে হলেও দেশটাকে বাঁচান। দেশ ছেয়ে যাচ্ছে মাদকে। দেশটাকে বাঁচান।’
সাংসদ নুরুল ইসলাম মিলন তাঁর বক্তব্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা বাতিলের দাবি করেন।

৮ বছরে তিনবার এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্ন পদ্ধতি বদল

৮ বছরে তিনবার এসএসসি-এইচএসসির প্রশ্ন পদ্ধতি বদল


২০০৯ সালে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হওয়ার পর অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে এসএসসি ও এইচএসসিতে বোর্ডভিত্তিক আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এরপর চার বছর না যেতেই আবার প্রশ্ন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে আবার সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এতে আট বছরে তিনবার প্রশ্ন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হলো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার এক চিঠিতে সব শিক্ষা বোর্ডকে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। তবে একই চিঠিতে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে তা কমানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বোর্ড চেয়ারম্যানদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সারা দেশে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে আমরা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। এই পদ্ধতিতে সম্ভাব্য যে ঝুঁকিগুলো আছে প্রথমেই তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’
জানা যায়, ২০০৯ সালে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হওয়ার পর সৃজনশীল বিষয়গুলোর পরীক্ষা নেওয়া হতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপকতা রোধ করতে ২০১৪ সালে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




এর ফলও পাওয়া যায়। এক বোর্ডের অধীনে প্রশ্ন ফাঁস হলে শুধু ওই বোর্ডের পরীক্ষাই স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া অনেক জায়গায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ থাকলেও তা ছড়িয়ে পড়েনি। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ এখনো রয়েছে। এর পরও নতুন করে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুক্তি হলো, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হলে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে ভারসাম্য আসবে। এতে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও সুফল পাবে শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছেলেখেলা করছে। একেক বোর্ডে একেক রকম সিলেবাস শেষ করা হতে পারে। নানা কারণে সিলেবাসের তারতম্য হতে পারে। এতে বোর্ডগুলো প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে পারে তাদের সুবিধা অনুযায়ী। এ ছাড়া সৃজনশীল মানে একেকজন একেক রকম লিখবে। কারণ শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ মেধা থেকে লিখবে। আর পরীক্ষকরাও লেখার ধরন অনুযায়ী নম্বর দেবেন। এখন অভিন্ন প্রশ্ন পদ্ধতি হলেও মূল্যায়ন একই হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।




নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, কোনো এক বোর্ডে এক বিষয়ে পাসের হার প্রায় শতভাগ। আবার অন্য কোনো বোর্ডে সেই হার অর্ধেক। আসলে একেক বোর্ডে একেক রকমের প্রশ্ন ও মূল্যায়ন হওয়ায় নম্বরে বেশি তারতম্য হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসও আগের চেয়ে কমেছে। তাই অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো নানা বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আছে। কারণ তারা কোনো গবেষণা ছাড়াই পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কয়েক বছর যেতে না যেতেই তা পরিবর্তন করতে হয়। আর এভাবে করতে গিয়ে তারা পরীক্ষা নিয়েও ছেলেখেলা করছে। এখন অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা হলেই যে মূল্যায়নে সমতা আসবে তা মোটেই ঠিক নয়। সৃজনশীলে শিক্ষার্থীরাও তাদের নিজের মতো করে লেখে। আর একেকজন শিক্ষক নিজের মূল্যায়ন অনুযায়ী নম্বর দেন। আসলে এসব না করে শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণসহ খাতা মূল্যায়নের ওপর প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া উচিত। ’




জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মো: আউয়াল সিদ্দিকী বলেন, যেকোনো পদ্ধতিই এত তাড়াতাড়ি পরিবর্তনের কী দরকার? আর প্রশ্ন ফাঁসও কি বন্ধ হয়ে গেছে যে আগের অবস্থান থেকে ফিরে আসতে হবে? আসলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তা গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা উচিত। শিক্ষা ও পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা উচিত, আমলাদের ইচ্ছায়  ঘন ঘন পরিবর্তন  করা উচিত নয়।
৭০০ কোটি টাকায় নতুন ১০ মডেল স্কুল

৭০০ কোটি টাকায় নতুন ১০ মডেল স্কুল


রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় নতুন ১০টি মডেল বিদ্যালয় স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকারি। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। ২০২০ সালের মধ্যে এসব স্কুল ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র দৈনিকশিক্ষাকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, ঢাকা শহরে এখন মডেল বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মতো উপযুক্ত নিষ্কন্টক জমি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ঢাকার খুব কাছাকাছি এসব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে রাজধানীর ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর যেমন চাপ কমবে। এতে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক শিক্ষাধারায়ও কিছুটা লাগাম টানা হবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনাকারীরা।



ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে মডেল বিদ্যালয় স্থাপনের এই ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। একনেক বৈঠকে এ প্রস্তাব ওঠার কথা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত স্থান :প্রস্তাবিত স্কুলগুলোতে সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি ভবন হবে ১০ তলা। থাকবে বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ের আলাদা ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার ল্যাব, অধ্যক্ষের জন্য দ্বিতল বাসভবন। ডিপিপির তথ্যানুযায়ী, ১০ সরকারি হাইস্কুল স্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত স্থানগুলো হচ্ছে- নবীনগর, ইপিজেড/আশুলিয়া, ধামরাই, পূর্বাচল, হেমায়েতপুর, জোয়ারসাহারা, সাইনবোর্ড, চিটাগাং রোড, শাহজাদপুর/নূরেরচালা ও ইকুরিয়া/ঝিলমিল এলাকা। এ ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে মানসম্পম্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে এসডিজি-৪ বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে সরকার। ২০৩০ সালের জন্য টেকসই উম্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) চার নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছে- মানসম্মত শিক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাপূর্ণ ও সবার জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।




সম্প্রতি সরকার সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গলসহ দেশের চার বিভাগে আটটি মাধ্যমিক স্তরের মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের অংশ হিসেবে চা বাগান অধ্যুষিত সিলেটের শ্রীমঙ্গলসহ দেশের চারটি বিভাগীয় শহরে আরও আটটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এ জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ঢাকায় একটি সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ছয়টি মহাবিদ্যালয় স্থাপনের কাজও এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই ১৭টি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে। বাকিগুলোর নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সম্প্রতি একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এগুলোতে সরকারের প্রত্যাশার চেয়েও বহুগুণ বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এগুলোর সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে সরকারি খাতে আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রকল্প সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।




সরকারের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবকরাও। তারা বলেন, ঢাকার আশপাশ এলাকার শিক্ষার্থীরাও এতে উপকৃত হবে। তাদের ঢাকায় কয়েকটি নামি স্কুলে পড়ার জন্য একদিকে দীর্ঘপথ অতিক্রম করতে হয়, অন্যদিকে মহানগরের যোগাযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এসব থেকে রেহাই মিলবে।
সামিয়া রহমানসহ ঢাবির ৫ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গবেষণায় চুরির অভিযোগ

সামিয়া রহমানসহ ঢাবির ৫ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গবেষণায় চুরির অভিযোগ


গবেষণায় চুরির অভিযোগে টিভি উপস্থাপিকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমানসহ ৫ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং দুটি তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ বলেন, ‘আমরা শিগগিরই তদন্ত কাজ শুরু করব। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’




উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান  বলেন, ‘তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তাদের দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।’
একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান ও অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের যৌথ গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ এসেছে।

সামিয়া রহমান একটি বেসরকারি টেলিভিশনে হেড অব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স হিসেবে পূর্ণকালীন চাকরি করছেন। সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ছাত্র মারজানও একটি বেসরকারি টেলিভিশনে কাজ করেছেন।
সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, বিদেশি একটি জার্নালের পক্ষ থেকে তাদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির ওই অভিযোগ আসে। শিকাগো জার্নালের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ওই অভিযোগ পাঠানো হয়। জার্নালটির অভিযোগে বলা হয়- পৃথিবী বিখ্যাত দার্শনিক মিশেল ফুকোর লেখা ‘দ্যা সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ শীর্ষক আর্টিকেলটি ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস (১৯৮২) প্রকাশ করে। সেই প্রবন্ধের পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা নকল করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই শিক্ষকের গবেষণা প্রবন্ধে।

ঢাবি ভিসি ড.  আ  আ মস আরেফিন সিদ্দিকের উপস্থিতিতে ওই গবেষণা গ্রন্থ দুটির প্রকাশনা উৎসব হয়।




অভিযোগের বিষয়ে সামিয়া রহমান বলেন, ওই লেখাটিতে অনুমতি ছাড়াই মারজান আমার নাম ব্যবহার করেছে। এ বিষয়ে আমি লিখিতভাবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের তৎকালীন ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকেও অবহিত করেছি। যার কপিও আমার কাছে রয়েছে। আর আমি যদি প্রধান লেখক হয়ে থাকি তাহলে তো আমার মেইল থেকেই লেখাটি যাওয়ার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটিও হয়নি। অনুমতি ছাড়া নাম ব্যবহারের কারণ আমি মারজানের কাছে জানতে চেয়েছি। সে প্রত্যুত্তরে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে। এই লেখার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

এ ব্যাপারে সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান বলেন, সামিয়া রহমান আমার শিক্ষক ছিলেন। তিনি ছিলেন ওই লেখার প্রধান লেখক ও যোগাযোগকারী। আমি ছিলাম দ্বিতীয় লেখক। এই আর্টিকেলে বড় অংশের কাজ তিনিই করেছেন- সেই প্রমাণ আমার কাছে আছে।

সিন্ডিকেট সূত্র আরও জানায়, গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ এসেছে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক রুহুল আমিন ও নুসরাত জাহান এবং বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। সিনিয়র একজন শিক্ষক উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে রুহুল আমিন ও নুসরাত জাহানের প্রকাশিত প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়ার অভিযোগ করেন। সেখানে তাদের একই লেখা কয়েকটি প্রবন্ধে প্রকাশ করা হয়েছে। পরে বদরুজ্জামানের বিরুদ্ধে পিএইচডি থিসিসে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ করেন চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক নুসরাত জাহান। এই দুটি পৃথক অভিযোগের তদন্ত একটি কমিটি করবে।

সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমাদকে প্রধান করে এই দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান ও ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের যৌথ গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।



কমিটিতে রয়েছেন- উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ (কমিটি প্রধান), সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক ও অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এবং তথ্য, বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম জাবেদ আহমদ।
দ্বিতীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক রুহুল আমিন ও নুসরাত জাহান এবং বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির দুটি অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য। উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, তথ্য, বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম জাবেদ আহমদ, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।