আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নারীদের গাড়ি কেনার ঋণ দেবে সৌদি ব্যাংক

নারীদের গাড়ি কেনার ঋণ দেবে সৌদি ব্যাংক

নারীদের গাড়ি চালানোর ব্যাপারে ডিক্রি জারির পর তাদের গাড়ি কিনতে ঋণ সহায়তা দেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছে দেশটির ব্যাংক। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা পাওয়ার ফলে অনেক নারী গাড়ি কিনতে আগ্রহী হবে।
সৌদির ব্যাংক গুলোর মিডিয়া এবং ব্যাংকিং সচেতনতা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তালাত হাফিজ জানান, নারীদের গাড়ি কেনার জন্য ঋণ দেয়ার ব্যাপারে ব্যাংকগুলো প্রস্তুত রয়েছে। ঋণ পাওয়ার ফলে নারীরা উপকৃত হবে এবং তাদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি



তিনি আরও বলেন, এ যাবৎ নারীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে। কারণ হয় তারা চালক রাখে নতুবা ভাড়াই চালিত যানবাহনে বেশি খরচে চড়ে কর্মস্থলে যাতায়াত করে। তবে ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনার ফলে তাদের সেই সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে।
দেশটিতে প্রতিবছর গাড়ি বিক্রির হার বেড়েই চলেছে। এতে করে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এরই মধ্যে ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নারী-পুরুষ সকলের জন্য সমানহারে সেবা প্রদানের। ব্যাংকগুলো চায়, নারীরাও সমানহারে ঋণ নেয়ার জন্য আসুক। এতে করে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই বিশ্বাস তাদের।



তাছাড়া যোগযোগ ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোরও চিন্তা করা হচ্ছে। উবার এবং করীমের মতো সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানে নারী চালক নিয়োগের ব্যাপারেও ভাবা হচ্ছে। এছাড়া নারীরা যাতে চাইলেই নারী চালক রাখতে পারে সে ব্যাপারেও ভাবা হচ্ছে।
সূত্র : আরব নিউজ


সু চির ছবি সরিয়েছে অক্সফোর্ড

সু চির ছবি সরিয়েছে অক্সফোর্ড

চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে সমালোচনার মুখে থাকা শান্তিতে নোবেল জয়ী নেত্রী অং সান সু চির একটি প্রতিকৃতি সরিয়ে নিয়েছে অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউ কলেজ। কলেজটির মূল ভবনের প্রবেশদ্বারে ছিল সু চির ওই প্রতিকৃতি।
সেন্ট হিউ কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন সু চি। সেখানে তিনি ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতির ওপর পড়াশোনা করেছেন।


গৃহবন্দী হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিও দেয় অক্সফোর্ড। ওই ডিগ্রি তিনি গ্রহণ করেন মুক্তি পাওয়ার পর, ২০১২ সালে। ওই বছর সু চির ৬৭ তম জন্মদিনও অক্সফোর্ডেই বেশ আড়ম্বর করে পালন করা হয়।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই নেত্রীর সমালোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক গণ অাদালত তাকে গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
গত ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তাণ্ডবে জীবন বাঁচাতে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।



মিয়ামারেরর সেনাবাহিনীর তাণ্ডবকে পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত জাতিগত নিধনযজ্ঞের উদাহরণের সঙ্গে তুলনা করেছে জাতিসংঘ।
এরকম একটি পরিস্থিতিতে অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউ কলেজ কর্তৃপক্ষ সু চির প্রতিকৃতি সরিয়ে নিয়ে গুদামে রেখে দিয়েছে। সু চির প্রতিকৃতি প্রদর্শনের জায়গায় জাপানি একটি চিত্রকর্ম বসানো হবে।
তবে সু চির প্রতিকৃতি সরানোর ব্যাপারে কোনো কারণ দেখায়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


অতিরিক্ত ব্যয়ের দায়ে মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ

অতিরিক্ত ব্যয়ের দায়ে মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ

সরকারি কাজে ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত ফ্লাইট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী টম প্রাইস। প্রাইসের পদত্যাগপত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রহণ করেছেন বলে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, প্রাইসের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাম্প।
প্রাইসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত মে মাস থেকে তিনি ২৬টি ব্যক্তিগত ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছেন, যার খরচ অন্তত চার লাখ ডলার।


কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র্রে পেশাগত কাজে সরকারি কর্মকর্তাদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ভ্রমণের নিয়ম রয়েছে। শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা এ নিয়মের বাইরে।
অবশ্য অভিযোগ ওঠার পরপরই দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন প্রাইস। তবে ট্রাম্প তখনই বলেছেন এ ধরনের খরচে তিনি খুবই অসন্তুষ্ট।
সূত্র : টেলিগ্রাফ






৪২ বছর পর মা জানলেন, কফিনে শিশুর মরদেহ ছিল না

৪২ বছর পর মা জানলেন, কফিনে শিশুর মরদেহ ছিল না

৪২ বছর ধরে সন্তানের সমাধিতে প্রত্যেক সপ্তাহে ফুল দিয়ে আসছেন মা লিডিয়া রিড। এতগুলো বছরে এমন একটাও সপ্তাহ কাটেনি যে সপ্তাহে তিনি সন্তানের কবরের কাছে যাননি।
সেই ১৯৭৫ সাল থেকে প্রতি সপ্তাহে একগোছা ফুল রেখে আসতেন সন্তান গ্যারি রবার্ট প্যাটনের কবরের উপর। মৃত সন্তানের স্মৃতিতে বিলাপ করতেন তিনি।
কিন্তু গত মাসে হঠাৎ সেই দৃশ্যটা পাল্টে গেছে। মায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে গ্যারির কফিন খুলে বিশেষজ্ঞরা যা দেখলেন, তাতে অবাক না হয়ে উপায় থাকে না।


কফিনে শিশুর খেলনা থেকে পোশাকের টুকরো সবই রয়েছে, কেবল নেই কোনো মানব শরীরের দেহাবশেষ!

১৯৭৫ সালের ঘটনা। তখন ৩৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ২৬ বছরের রিড। প্রসববেদনা ওঠায় তাকে ভর্তি করানো হয় স্থানীয় হাসপাতালে।
চিকিৎসকরা দেরি না করে অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন। গ্যারির শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ বলে জানানো হয় রিডকে। দিন কয়েক পরে রিডকে ছেড়ে দেয়া হলেও গ্যারিকে রাখা হয় লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে

তবে রিডের অভিযোগ, সন্তানকে ভালভাবে দেখতেও দেয়া হয়নি তাকে। এর পরেই রিডকে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্যারির শরীরের বেশির ভাগ অঙ্গই কোনো কাজ করছে না। মায়ের অনুমতি পেলেই তারা খুলে দেবেন লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম।



সারাজীবন সন্তান কষ্ট পাবে ভেবে ভগ্ন হৃদয়ে অনুমতি দেন মা। তার পরেই রহস্যময় পর্ব শুরু হয়ে যায়। রিড তখনই দাবি করেছিলেন, তার সন্তান ফর্সা ছিল, মাথায় বেশি চুল ছিল না।
কিন্তু যে শিশুকে কফিনে রাখা হচ্ছিল, তার মাথা ভর্তি চুল ছিল, ফর্সাও ছিল সে। রিড তখনই প্রতিবাদ জানান। তবে তাকে চিকিৎসকরা বোঝাতে থাকেন, তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। সন্তান হারানোর দুঃখে তিনি প্রলাপ বকছেন। তাই ভুল দেখছেন তিনি।
চিকিৎসকদের যুক্তি মেনে নেন রিড। সন্তানের কফিন বয়ে নিয়ে যান নিজের হাতে। সন্দেহ হচ্ছিল তখনও। এত হালকা কেন কফিন! মানসিক স্বাস্থ্যের কথা উল্লেখ করা হয় তখনও।
তার পর কেটে গেছে বহু বছর। স্কটল্যান্ডে শিশুদের অঙ্গ পাচারের বিশাল এক চক্রের কথা জানাজানি হয়ে যায় ১৯৯৯ সালে। তাদের সঙ্গে বেশ কিছু হাসপাতালের যোগসাজশের প্রমাণও পাওয়া যায়।
এবার সন্দেহের ভিত্তিতে হামপাতালে গিয়ে কথা বলেন রিড। তবে হাসপাতাল থেকে তাদের জানানো হয়, তাদের শিশুদের সঙ্গে তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।



তারপরেও নিশ্চিত হতে পারেন না রিড। হাসপাতালের সঙ্গে পাচার চক্রের নাম একের পর এক জড়িয়ে পড়ায় রিড আবেদন করেন গ্যারির কফিন পরীক্ষার।
আদালত অবশেষে সেই আবেদনে সাড়া দেয়। কফিন তুলে দিন কয়েক আগে পরীক্ষা করে হতবাক হয়ে যান রিড। সেখানে কোনো মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি।
তাহলে ওই কফিনে কোনো শিশুর মরদেহই ছিল না। তার সন্তান গ্যারি কি তাহলে জীবিত আছেন? সেই উত্তর অবশ্য তার জানা নেই। নিজেদের মৃত সন্তানের মরদেহ হিসেবে কীপন পুঁতে রাখা শত শত মায়ের প্রশ্ন, তাদের সন্তানরা কি আসলেই মারা গিয়েছিল?
নাকি তাদের অঙ্গ কেটে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল? নাকি তারা বেঁচে আছে? থাকলে কোথায় আছে তারা? কি ঘটেছিল তাদের সঙ্গে? রিডের মতো অসংখ্য মা এখন উত্তরের খোঁজে আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন।
সূত্র : দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট